Breaking


Thursday, December 29, 2022

December 29, 2022

কার্বনের উৎস ও ব্যবহার || Sources Of Carbon And Uses ||

 
:: কার্বনের উৎস ও ব্যবহার (Sources of Carbon and uses) :: 

কার্বনের উৎস ও ব্যবহার || Sources Of Carbon And Uses ||



প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের মূল উপাদান হল কার্বন/Carbon। কার্বনকে মুক্ত অবস্থায় মৌলরূপে এবং বিভিন্ন মৌলের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় যৌগরূপে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বর্তমানে পৃথিবীতে কার্বন যৌগের সংখ্যা দশ লক্ষেরও বেশি। এ সব যৌগ ভূপৃষ্ঠে, খনিজ রাজ্যে, সমুদ্রগর্ভে ও বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে আছে। অর্থাৎ, এই পৃথিবী হল কার্বন ও কার্বন যৌগের এক বিশাল ভাণ্ডার। আজকে আমরা জানবো Sources Of Carbon And Uses বা কার্বনের উৎস ও ব্যবহার। 



1. মুক্ত অবস্থায় কার্বন : মুক্ত অবস্থায় বিশুদ্ধ কার্বন কেলাসাকার হীরক, গ্রাফাইট ও ফুলারিনে মৌল রূপে থাকে।
■ হীরক : খনিজ পদার্থ হিসাবে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের গোলকুণ্ডায় হীরক পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় 95% হীরক দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া যায়।
 • ব্যবহার : (i) হীরক বহুমূল্য রত্ন হিসাবে অলংকার শিল্পে এবং (ii) কাঁচ কাটতে, পাথর ছিদ্র করতে ও ধাতু পালিশ করতে কালো হীরক (বোর্ট বা কার্বোনেডো) ব্যবহার করা হয়। 
গ্রাফাইট : শ্রীলঙ্কা, ক্যালিফোর্নিয়া, সাইবেরিয়া, ইটালি, মেক্সিকো এবং ভারতের সিকিমে খনিজরূপে গ্রাফাইট পাওয়া যায়।
ব্যবহার : (i) পেনসিলের শিষপিচ্ছিলকারক তেল তৈরিতে, 
(ii) তড়িৎ চুল্লিতেতড়িৎ-বিশ্লেষণে তড়িৎদ্বার রূপে এবং
(iii) উচ্চ-তাপসহ মুচি তৈরিতে এবং ব্যাটারি প্রস্তুতিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
ফুলারিন : নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা প্রভৃতি অঞ্চলে কয়লার খনিতে অ্যানথ্রাসাইট কয়লার মধ্যে ফুলারিনের সন্ধান মিলেছে) উচ্চ উষ্মতায় (1000°C) আর্গন গ্যাসের মধ্যে উত্তপ্ত করলে ফুলারিন পাওয়া যায়।
ব্যবহার :(i) উচ্চ উষ্মতায় ফুলারিন অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor) রূপে ব্যবহৃত হয়। 
(ii) খুব ছোটো আকারের নল ন্যানোটিউব তৈরি করতে ফুলারিন ব্যবহৃত হয়। এই নল গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়।



2. যৌগের উপাদান রূপে কার্বন : 
(i) জীবদেহের প্রোটিন, শর্করা জাতীয় (কার্বোহাইড্রেট), স্নেহ জাতীয় (ফ্যাট), নিউক্লিক অ্যাসিড, সেলুলোজ প্রভৃতি কার্বনঘটিত যৌগ।
(ii) খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম এবং খনি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে কার্বন বর্তমান। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, প্যারাফিন, ভেসেলিন ইত্যাদি কার্বনের যৌগ সমন্বিত মিশ্রণ।
(iii) চুনাপাথর (CaCO3), ক্যালামাইন (ZnCO3), ম্যাগনেসাইট (MgCO3), সিডারাইট (FeCO3), ম্যালাকাইট [CuCO3, Cu(OH)2] প্রভৃতি খনিজ কার্বনেটে কার্বন আছে। (iv) বায়ুর অন্যতম উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইড কার্বনঘটিত যৌগ।
(v) খনিজ কয়লা হল মুক্ত কার্বন এবং কার্বনের হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং সালফার ঘটিত বহু অণু জটিল যৌগের মিশ্রণ।
ব্যবহার : তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, শিল্প কেন্দ্রে এবং গৃহে জ্বালানি হিসাবে কয়লা ব্যবহার করা হয়।



3. উপজাত হিসাবে অনিয়তাকার কার্বন :
■ (1) অঙ্গার বা চারকোল
(i) কাঠের অন্তর্ভূম পাতনের ফলে পাতন পাত্রে যে অনুদ্বায়ী কালো বর্ণের অবশেষ থাকে, তাকে কাঠকয়লা (Wood-charcoal) বলে।  ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে সিক্ত কাঠের অন্তর্ধম পাতনে যে  অঙ্গারটি পাওয়া যায়, তাকেই সক্রিয় অঙ্গার (Activated charcoal) বলা হয়।
(ii) চিনির অন্তধূম পাতন করলে অবশেষ রূপে শর্করা কয়লা (Sugar charcoal) পাওয়া- যায়। এটি বিশুদ্ধ কার্বন। 
(iii) জীবজন্তুর হাড়ের গুঁড়োর অন্তর্ধম পাতন করলে যে কালো অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে অস্থি অঙ্গার বা বোন ব্ল্যাক বলে।
(iv) রক্তের অন্তধূম পাতন করলে অবশেষ হিসাবে রক্ত অঙ্গার পাওয়া যায়। 
ব্যবহার : (i) কাঠকয়লা জ্বালানি হিসাবে, বিজারক রূপে, ফিলটার বেডে পরিস্রাবক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। (ii) শর্করা কয়লা পরীক্ষাগারে বিজারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। (iii) চিনি শোধনে এবং আইভরি ব্ল্যাক নামে কালো রং প্রস্তুতিতে অস্থি অঙ্গার ব্যবহার করা হয়।। (iv) দ্রবণ থেকে রঞ্জক পদার্থ দূর করতে এবং কোনো কোনো ওষুধে রক্ত অঙ্গার ব্যবহার করা হয়।
(2) (i) ভুসাকালি : কেরোসিন তেল, পেট্রোল, বেনজিন, তারপিন তেল ইত্যাদি কার্বন বহুল জৈব যৌগকে কম বায়ুতে পোড়ালে প্রচুর কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। একে ঠাণ্ডা পাত্রের গায়ে জমা করলে ভুসাকালি বা ঝুল পাওয়া যায়। এটি রং, ছাপার কালি, জুতোর কালি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
• (ii) কার্বন ব্ল্যাক (Carbon black) : প্রাকৃতিক গ্যাসকে (মিথেন) কম বায়ুতে দহন করলে উৎপন্ন ধোঁয়া থেকে প্রাপ্ত ভুসাকালিকে কার্বন ব্ল্যাক বলে। এটি রং, ছাপার কালি, রবারের সঙ্গে মিশিয়ে মোটর গাড়ির টায়ার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
(iii) কোক (Coke) : প্রাকৃতিক কয়লার অন্তর্ধম পাতন করলে পাত্রের তলায় যে কালো অনুদ্বায়ী কঠিন অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে কোক কয়লা বলে। অন্তধূম পাতনের উষ্মতা কম বা বেশি থাকলে যথাক্রমে সফ্ট কোক এবং হার্ড কোক পাওয়া যায়। সফ্‌ট কোক ধোঁয়াহীন জ্বালানী হিসাবে এবং হার্ড কোক ধাতু নিষ্কাশনে জ্বালানি এবং বিজারক রূপে ব্যবহৃত হয়।
(iv) গ্যাস কার্বন (Gas Carbon) : কয়লার অন্তর্ধম পাতনে পাতন পাত্রের দেওয়ালে যে কালো ও শক্ত আস্তরণ পড়ে, তাকে গ্যাস কার্বন বলে। এটি তাপতড়িতের সুপরিবাহী। গ্যাস কার্বন অ্যাকল্যাম্প ও তড়িৎ কোশের তড়িৎদ্বার রূপে এবং ডায়নামোমোটরের ব্রাশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।



ধন্যবাদ সবাইকে। উপরের লেখা টাই আমরা জানলাম কার্বনের উৎস ও ব্যবহার Sources Of Carbon And Uses. ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এইরকম তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

Monday, December 5, 2022

December 05, 2022

মার্টিন লুথারের অবদান || Martin Luther's Contribution To The Reformation Movement In Europe ||


:: মার্টিন লুথার ::

মার্টিন লুথারের অবদান || Martin Luther's Contribution To The Reformation Movement In Europe



সূচনা: 
জার্মানি তথা ইউরোপের ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন মার্টিন লুথার (১৪৮৩-১৫৪৬ খ্রি.)। তিনিই প্রথম খ্রিস্টান চার্চ ও পোপতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক আন্দোলনের সূচনা ঘটান। ষোড়শ শতক থেকে রিফরমেশন' শব্দটি লুথারের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতে থাকে। লুথারের ধর্মতত্ত্বের মূল কথা হল ঈশ্বরে অবিচল বিশ্বাসই মুখ্য, চার্চের আচার-আচরণ গৌণ ব্যাপার।


ধর্মসংস্কার আন্দোলনে মার্টিন লুথারের অবদান

1. পোপতন্ত্রের বিরোধিতা::-

A. ইনডালজেন্সের বিরোধিতা: ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে যাজক টেটজেল সেন্ট পিটার্স চার্চ সংস্কারের অজুহাতে জার্মানির স্যাক্সনিতে যান। সেখানে তিনি পাপমুক্তির ছাড়পত্র হিসেবে ইনডালজেন্স বা মার্জনাপত্র বিক্রি করতে শুরু করেন। মার্টিন লুথার এই মার্জনাপত্র বিক্রয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।

B. লুথারের ৯৫ থিসিস: লুথার তাঁর 'পঁচানব্বই থিসিস' (Ninety-five theses)-এর মধ্যে দিয়ে পোপতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইনডালজেন্স বা মার্জনাপত্র বিক্রয়ের বিরুদ্ধে উইটেনবার্গের কাসেল চার্চের দরজায় তাঁর লিখিত প্রতিবাদপত্র ‘পঁচানব্বই থিসিস' আটকে দেন। তাঁর এই লিখিত প্রতিবাদের মধ্যে দিয়েই কলুষিত পোপতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম জেহাদ ঘোষিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পোপ দশম লিও-র প্রতিনিধি টেটজেল লুথারের এই ৯৫ থিসিসের জবাবে ১০৬টি অ্যান্টিথিসিস বা প্রতিপ্রশ্ন ছাপিয়ে বিক্রি করেন।



2. প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্মের প্রতিষ্ঠা: লুথারের ধর্মসংস্কার আন্দোলনের ফলে খ্রিস্টানগণ দুটি সম্প্রদায়ে ভাগ হয়ে যান। পোপতন্ত্রের অনুগামী বা সমর্থকগণ ক্যাথলিক (Catholic) এবং পোপ বিরুদ্ধকারী তথা লুথারের সমর্থনকারীগণ প্রোটেস্ট্যান্ট (Protestant) বা প্রতিবাদী নামে পরিচিতি পান। জার্মানি এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলিতে লুথারের প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মমতের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল। প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মমত Lutheranism বা লুথারবাদ নামেও পরিচিত।


3. অপ্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধিতা: লুথার ক্যাথলিক ধর্মের অধিকাংশ আচার-অনুষ্ঠানকেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করতেন। খ্রিস্টের শেষ নৈশভোজ-এর স্মরণে খাদ্যরূপে রুটি ও মদ গ্রহণ রীতি (The Eucharist), খ্রিস্টধর্মের আনুষ্ঠানিক দীক্ষাগ্রহণ ধর্মান্তরিতদের চার্চের পূর্ণাঙ্গ সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্তিকরণের অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিকভাবে যাজকপদে অভিষেক , দোষী ব্যক্তিকে পাদরি কর্তৃক শাস্তি প্রদান এবং অর্থের বিনিময়ে পাপমুক্তি ক্রয় প্রভৃতি অপ্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠানের সব সময় বিরোধিতা করেন মার্টিন লুথার।



4. খ্রিস্টধর্মের আদর্শের পুনরুজ্জীবনে প্রচেষ্টা: মার্টিন লুথার খ্রিস্টধর্মাদর্শের পুনরুজ্জীবন ঘটান। লুথার বলেন যে, ভগবান হলেন সর্বশক্তিমান এবং তাঁর ইচ্ছাতেই পৃথিবীতে সবকিছু ঘটে চলেছে। লুথারের মতে, সমস্ত মানুষের ভাগ্যই পূর্বনির্ধারিত এবং যে-কোনো ধনী গরীব সকল মানুষ মঙ্গলময় ঈশ্বরের করুণা বা Gratia লাভের অধিকারী।



5. বাইবেলের অনুবাদে উৎসাহদান: উইলিয়াম ওকামের চিন্তাধারার দ্বারা লুথারের ধর্মীয় ভাবনা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। ইউরোপে এই চিন্তাধারায় বিশ্বাসীরা বলতেন যে, বিশ্বাসই মুক্তি আনবে। জ্ঞান ও বিশ্বাস অর্জনের জন্য শাস্ত্র পড়া প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই নিজ নিজ ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ প্রয়োজন। লুথার এই বিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়ে বাইবেলের অনুবাদে উৎসাহ জোগান।



6. পোপের কাছে প্রতিবাদ: খ্রিস্টধর্মের এবং চার্চের বিভিন্ন অনাচারের বিরুদ্ধে লুথার বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু প্রতিবাদী বক্তৃতা করেন। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয় ভেবে তিনি রোমে গিয়ে পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যাবতীয় ধর্মীয় অনাচার ও দুর্নীতি দূর করার জন্য তিনি পোপকে অনুরোধ জানান। কিন্তু পোপ তাঁর আবেদনে সাড়া দেননি।



7. রাষ্ট্রশক্তির সুদৃঢ়করণ: লুথার বলেন যে, সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়ের প্রতিকার করার দায়িত্ব শাসকের। তাই পোপ বা যাজক নয়, শাসক ও তাঁর কর্মচারীরাই হলেন পৃথিবীতে ঈশ্বরের প্রতিনিধি। লুথারের এই মত ইউরোপে রাজতন্ত্র ও জাতীয় রাষ্ট্রগুলিকে শক্তিশালী করে।



8. ধর্মসংস্কার আন্দোলনের প্রসার: মার্টিন লুথার সর্বপ্রথম জার্মানিতে ধর্মসংস্কার আন্দোলনের সূচনা ঘটান। পরবর্তীকালে এই ধর্মসংস্কার আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়ে মধ্য, পূর্ব এবং পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে।



9. লিখিত প্রতিবাদ: লুথার অজস্র গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা করেন। এই গ্রন্থগুলির মধ্যে দিয়ে চার্চতন্ত্রের দুর্নীতির বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। মার্টিন লুথার এর লেখা একটি প্রবন্ধ ‘বন্ডেজ অব দ্য উইল' । এই প্রবন্ধে তিনি জানান “সকল মানুষ ঈশ্বরের ইচ্ছার দাস, শুধু কাজের দ্বারা সে তার নিজের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে না।” “বাবিলনিয়ান ক্যাপটিভিটি' গ্রন্থে লুথার বলেন যে, জার্মান জাতির চার্চ পোপতন্ত্রের অধীনতা থেকে মুক্ত হতে চায়। ‘রেজোলিউশান' গ্রন্থে লুথার পোপের ক্ষমতাকে অস্বীকার করেন।



মূল্যায়ন: একজন দুঃসাহসী ধর্মসংস্কারক হিসেবে মার্টিন লুথার চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই প্রথম ষোড়শ শতকে পোপতন্ত্র এবং চার্চতন্ত্রের যাবতীয় অনাচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন। গেরহার্ড রিটার তাই বলেছেন যে, “মার্টিন লুথারের প্রচারশক্তি জন্য এই ধর্মবিপ্লব সাফল্যের মুখ দেখে।"

Saturday, December 3, 2022

December 03, 2022

নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন || Change Sentences According To Instructions||

 

:: নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন ::

নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন || Change Sentences According To Instructions||



প্রিয় পরীক্ষার্থী, 
আসন্ন পরীক্ষায় নিজেদের প্রস্তুত করতে আজকের টেস্টটি দাও। নির্দেশ অনুসারে বাক্য গুলো পরিবর্তন করো এবং কত স্কোর করলে আমাদের কমেন্ট করে জানাও।


1.কিন্তু সেখানে কাণ্ডটা কী হইতেছে সেটা জানা চাই। (সরল বাক্যে)


2.তাহাদের পরস্পরের মধ্যে একটা রাস্তা থাকা চাই। (জটিল বাক্যে)


3.ভাবনার জন্যই ভাবনা হয়।(অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে)


4.ছড়িয়ে থেকো না । (নির্দেশক বাক্যে)


5.তোমাদের চলার পথ বাধামুক্ত হবে এটাই

 কাম্য । (প্রার্থনাসূচক বাক্যে)


6.সাঁতার জানলে আর ভয় নেই।

(আবেগসূচক বাক্যে)


7.যদি আমি তুমি কবিতা লিখিতে অভ্যাস করি, তাহা হইলে কি কালিদাস হইতে পারিব?

(যৌগিক বাক্যে)


8.কী সর্বনাশ ঘটিল। (নির্দেশক বাক্যে)


9.ধর্মজীবনের ব্যাপ্তি সামাজিক জীবনে ছড়িয়ে না পড়লে তার মূল্যই বা কতটুকু? (জটিল বাক্যে)


10.তুমি যা বলছ, তা আমার কাছে সোনার পাথরবাটি। (সরল বাক্যে)


11.যদিও সবাই চলে গেছে, তবুও আমি যাইনি। (যৌগিক বাক্যে)


12.এদিক-ওদিক না তাকিয়ে নিজের কাজটা করো। (যৌগিক বাক্যে)


13.যদি একথা না শোনো, বিপদে পড়বে। 
(সরল বাক্যে)


14.তোমার মনে যে এই ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি। (সরল বাক্যে)


15.আমি সবই জানি, কিন্তু জেনেই বা কী ফল? (জটিল বাক্যে)


16.একটা গোরু আছে ওদের, টোলের পিছনের মাঠে চরে সে। (সরল বাক্যে)

17.সঙ্গে সঙ্গে করে দেখিয়েও দিল, কী খাসা কাজের হাত তার। (নির্দেশক বাক্যে)

19.জায়গাটা খুবই সুন্দর। (আবেগসূচক বাক্যে)

20.ব্যস্, আর কোনো ভয় নেই। (প্রশ্নসূচক বাক্যে)

18.সে তো সারাক্ষণ তোমার হাতে হাতে কাজ করে দেয়। (প্রশ্নসূচক বাক্যে)


21.তার কি আর এখানে ভালো লাগে? (নির্দেশক বাক্যে)


22.সে বুঝি লোক ভালো নয়? (অস্ত্যর্থক বাক্যে)

23.নৌকা পার হতে পারলে তবেই বিপদ থেকে মুক্তি। (নঞর্থক বাক্যে)

24. এক বর্ষার পর থেকে পরের বর্ষা অবধি জল কোথায় পাওয়া যাবে? (নির্দেশক বাক্যে)


25. দুষ্টুমি না থামালে জিনিস ফেরত পাবে না। (অস্ত্যর্থক বাক্যে)

26.একবার শুনলেই খেস্তি সব মনে রাখে। (নঞর্থক বাক্যে)

27.মহামারি না কি, জানতাম না তো! (নির্দেশক বাক্যে)

28.পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে। (জটিল বাক্যে)


29.লেখাপড়া শেখাই সেই রাস্তা। (প্রশ্নসূচক বাক্যে)

30.বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি। (জটিল বাক্যে)




উত্তর::


1.কিন্তু সেখানে হয়ে চলা কাণ্ডটা জানা চাই ।

2.তাহাদের পরস্পরের মধ্যে যা থাকা চাই, তা হল একটি রাস্তা।

3.ভাবনার জন্য ভাবো।

4.ছড়িয়ে না থাকতে বলা হচ্ছে।

5.কামনা করি, তোমাদের চলার পথ বাধামুক্ত হোক ।

6.সাঁতার জানলে তো আর ভয়ই নেই!

7.আমি তুমি কবিতা লিখিতে অভ্যাস করিতে পারি, কিন্তু কালিদাস হইতে পারিব কি?

8.বড়ো সর্বনাশ ঘটিল।

9.ধর্মজীবনের ব্যাপ্তি যদি সামাজিক জীবনে ছড়িয়ে না পড়ে, তবে তার মূল্যই বা কতটুকু?

10.এদিক-ওদিক তাকিয়ো না, বরং নিজের কাজটা করো ।

11.সবাই চলে গেছে, কিন্তু আমি যাইনি ।

12.এদিক-ওদিক তাকিয়ো না, বরং নিজের কাজটা করো ।

13.একথা না শুনলে বিপদে পড়বে।

14.তোমার মনের এই কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি।

15.যদিও আমি সবই জানি, তবু জেনেই বা কী ফল?

16.ওদের গোরুটা টোলের পিছনের মাঠে চরে।

17.তার কাজের হাত যে খুব খাসা, তা সঙ্গে সঙ্গে করে দেখিয়েও দিল।

18.সে সারাক্ষণই তোমার হাতে হাতে কাজ করে দেয় না কি?

19.জায়গাটা কী সুন্দর!

20.ব্যস্, আর কীসের ভয়?

21.তার এখানে আর ভালো লাগে না ।

22.সে বুঝি খারাপ লোক?

23.নৌকা পার না হতে পারলে বিপদ থেকে মুক্তি নেই।

24.এক বর্ষার পর থেকে পরের বর্ষা অবধি জল কোথায় পাওয়া যাবে কেউ জানে না ।

25.দুষ্টুমি থামালে তবেই জিনিস ফেরত পাবে।

26.একবার শুনলে খেন্তি আর কিছু ভোলে না।

27.মহামারি যে হয়েছে, তা জানতাম না ।

28.রামের যে অনুজ, তারে শমন-ভবনে পাঠাইব।

29.লেখাপড়া শেখাই কি সেই রাস্তা নয়?

30.যাহা বাংলার মুখ, তাহা আমি দেখিয়াছি ।



ধন্যবাদ সবাইকে। আশাকরি নির্দেশ অনুসারে বাক্য পরিবর্তন বা Change Sentence According To Instructions আপনাদের ভালো লেগেছে। আরও নতুন ধরনের তথ্য গুলো পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

Wednesday, November 30, 2022

November 30, 2022

রাজ্যপালের ক্ষমতা, কার্যাবলী ও পদমর্যাদা|| Powers, Functions And Rank Of The Governor||




:: রাজ্যপালের ক্ষমতা, কার্যাবলী ও পদমর্যাদা ::

রাজ্যপালের ক্ষমতা, কার্যাবলী ও পদমর্যাদা|| Powers, Functions And Rank Of The Governor||




রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি ::
ভারতের রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রের মতো সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির মতো রাজ্যপাল রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক শাসকপ্রধান। রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যেমন—[1] শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা, [2] আইন-সংক্রান্ত ক্ষমতা, [3] অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা, [4] বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা এবং [5] স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ।


1 শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতা: 

সংবিধানের ১৫৪ (১) নং ধারা অনুসারে রাজ্যের শাসন-সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষমতা তত্ত্বগতভাবে রাজ্যপালের হাতে রয়েছে।
 ১) রাজ্যের সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম তাঁর নামে সম্পাদিত হয়।
 ২) রাজ্যের শাসন-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্ম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন প্রণয়ন করার ক্ষমতা রাজ্যপালের রয়েছে।
 ৩) রাজ্যপালের শাসন-সংক্রান্ত ক্ষমতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল তাঁর নিয়োগ-সম্পর্কিত ক্ষমতা। রাজ্যপাল এই ক্ষমতাবলে রাজ্য বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতা অথবা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে থাকেন। পরে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শমতো অন্য মন্ত্রীদেরও তিনি নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের পদচ্যুত করার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে। এ ছাড়া রাজ্যের মহাধিবক্তা (AdvocateGeneral), রাজ্য জনপালন কৃত্যক কমিশনের সদস্য প্রভৃতি উচ্চপদস্থ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের রাজ্যপাল নিয়োগ করে থাকেন।
 ৪) রাজ্যে শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে বলে মনে করলে রাজ্যপাল ৩৫৬ ধারা জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে পারেন।
 ৫) রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য বা চ্যান্সেলার হিসেবে রাজ্যপালের একটি স্বতন্ত্র ভূমিকা রয়েছে।



2. আইন-সংক্রান্ত ক্ষমতা: 
রাজ্য আইনসভার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরূপে রাজ্যপাল যে সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী সেগুলি হল—
 ১) রাজ্য আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করা বা অধিবেশন স্থগিত রাখার ক্ষমতা রাজ্যপালের রয়েছে।
 ২) রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে।
 ৩) রাজ্য আইনসভায় গৃহীত কোনো বিল রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া আইনে পরিণত হতে পারে না।
 ৪) অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিলকে তিনি রাজ্য আইনসভায় পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন।
 ৫) এ ছাড়া রাজ্য আইনসভা কর্তৃক অনুমোদিত কিছু বিলের ক্ষেত্রে তিনি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে বিচারবিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দিতে পারেন।
 ৬) রাজ্য আইনসভার অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন জরুরি প্রয়োজনে রাজ্যপালের অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করার ক্ষমতা রয়েছে।
 ৭) রাজ্যপালের আইন-সংক্রান্ত ক্ষমতার মধ্যে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হল—দ্বিকক্ষবিশিষ্ট রাজ্য আইনসভার ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজসেবায় খ্যাতিমান ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া; দ্বিকক্ষবিশিষ্ট রাজ্য আইনসভায় যুগ্ম অধিবেশন আহ্বান করা; রাজ্য আইনসভায় বাণী প্রেরণ করা; প্রতি বছর রাজ্য আইনসভার প্রথম অধিবেশনের শুরুতে ভাষণ দেওয়া; রাজ্য-জনপালন কৃত্যক পরিষদ, অডিটর জেনারেল প্রভৃতি সংস্থার বার্ষিক রিপোর্ট বিচারবিবেচনা করা ইত্যাদি।

 


3. অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতা:
 রাজ্যপালের অর্থ-সংক্রান্ত ক্ষমতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য বিধানসভায় বাজেট বা অর্থবিল পেশ করার আগে অর্থমন্ত্রীকে রাজ্যপালের অনুমতি নিতে হয়। কোনো আকস্মিক দুর্যোগে রাজ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য রাজ্যপালের হাতে আকস্মিক ব্যয় তহবিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল থেকে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যপালের রয়েছে।

 


4. বিচার-সংক্রান্ত ক্ষমতা: 
রাজ্য হাইকোর্টের বিচারপতিরা রাজ্যপালের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।রাজ্যের দেওয়ানি আদালতের বিচারপতি, অতিরিক্ত জেলা জজ, দায়রা জজ প্রমুখ রাজ্যপাল কর্তৃক নিযুক্ত হন। এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীর দণ্ডাদেশ হ্রাস, স্থগিত, এমনকি ক্ষমা প্রদান করার ক্ষমতাও রাজ্যপালের রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি এবং সামরিক বা আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তিদের রাজ্যপাল ক্ষমা প্রদান করতে পারেন না।

 


5. স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা: 
নিজস্ব বিচারবিবেচনা অনুসারে রাজ্যপালের কাজ করার ক্ষমতাকে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলা হয়। স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে রাজ্য মন্ত্রীসভার সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় না। এমনকি কোনো বিষয় স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার অন্তর্গত কিনা সে প্রশ্নে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এক্ষেত্রে রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না [১৬৩ (২) নং ধারা]। সংবিধানে যেসব ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল—
 ২) মণিপুরের পার্বত্য অঞ্চল ও সিকিমের ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে
 ৩) নাগাল্যান্ডের রাজ্যপালকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হবে,
 ৪) মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের কয়েকটি অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দুই রাজ্যের রাজ্যপালকে রাষ্ট্রপতি স্বতন্ত্র উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের দায়িত্ব দিলে, সেই পর্ষদের পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের মধ্যে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের ন্যায়সংগত বণ্টন প্রভৃতির দায়িত্ব রাজ্যপালকে পালন করতে হবে,
 ৫) উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিষয়ে এবং অসম ও তার স্বয়ংশাসিত জেলা পরিষদের মধ্যে খনিজ সম্পদের লভ্যাংশ বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ দেখা দিলে রাজ্যপাল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন,
 ৬) ১৯৮৬ সালের ৫৫তম সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী অরুণাচল প্রদেশের রাজ্যপালের সেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।

 ১) পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসকের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অর্পিত হলে, রাজ্যপাল তা স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন,




 রাজ্যপালের পদমর্যাদা::
রাজ্যপাল যেহেতু নিয়মতান্ত্রিক শাসক তাই তাঁর পদটিকে নেহাতই নামসর্বস্ব পদ বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, সংবিধানের কিছু ব্যবস্থার জন্য তাঁকে পুরোপুরি নিয়মতান্ত্রিক শাসক বলা চলে না। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন যা তাঁকে শক্তিশালী প্রশাসকের ভূমিকায় অধিষ্ঠিত করেছে। এজন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞরা তাঁকে প্রকৃত শাসনকর্তা বলে অভিহিত করেন। রাজ্যপালের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিশ্লেষণ করে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তিনি নিছক নিয়মতান্ত্রিক শাসক নন। রাজ্যপালের একটি দ্বৈত ভূমিকা রয়েছে। একদিকে তিনি রাজ্যের নিয়মতান্ত্রিক শাসকপ্রধান। আবার অন্যদিকে তিনি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার অধিকারী। তবে বিশেষ কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে দেখা যায়, ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রাজ্যপালরা সাধারণভাবে নিয়মতান্ত্রিক শাসকপ্রধানের ভূমিকাই পালন করে চলেছেন।

Sunday, November 27, 2022

November 27, 2022

শব্দ তরঙ্গ || শব্দ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন|| Answer Short Questions About Sound||



:: শব্দ :: (Sound)

শব্দ তরঙ্গ || শব্দ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন|| Answer Short Questions About Sound|| 



নমস্কার, আশাকরি তোমরা সবাই ভালো আছো। আজকে তোমাদের সাথে Answer Short Questions About Sound বা শব্দ সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন শেয়ার করে নিলাম। আপকামিং এক্সাম গুলোতে Sound  টপিকটি গুরত্বপূর্ণ। সুতরাং দেরী না করে প্রশ্ন উত্তর গুলো দেখে নাও।



1. আমরা কীরকম শব্দ কানে শুনতে পাই ?
Ans. শ্রুতিগোচর শব্দ।


2. শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিসরণ ঘটে কি?
Ans. হ্যাঁ, ঘটে।


3. শব্দের কম্পনসংখ্যা সেকেন্ডে 20 বারের কম হলে তাকে কী শব্দ বলে?
Ans. শব্দেতর শব্দ।


4. শব্দ শোনার জন্য কী প্রয়োজন?
Ans. কম্পনশীল বস্তু।


5. শব্দের উৎসকে কী বলে ?
Ans. স্বনক। 


6. শব্দের কম্পন সংখ্যা সেকেন্ডে 20,000 বারের বেশি হলে তাকে কীরকম শব্দ বলে?
Ans. শব্দোত্তর শব্দ।


7. শব্দতরঙ্গের প্রকৃতি কী?
 Ans. শব্দ স্থিতিস্থাপক অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।


8. শ্রুতিসীমা কাকে বলে?
 Ans. কম্পনের যে সীমারেখার শব্দ আমরা শুনতে পাই তাকে শ্রুতিসীমা বলে।


9. শব্দ কোন্ কোন্ মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সঞ্চালিত
হতে পারে? 
Ans. কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়।


10. চাঁদে কোনো বিস্ফোরণ হলে তা আমরা
পৃথিবীতে শুনতে পাই না কেন?
Ans. চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে কোনো জড় মাধ্যমের সংযোগ নেই বলে শব্দ চাঁদ থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছোয় না।


 11. তরলের ভিতর দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হয়। একটি উদাহরণ দাও।
Ans. বৃষ্টির সময় পুকুরে ডুব দিলে বৃষ্টি পড়ার শব্দ পরিষ্কার শোনা যায়।


12. কঠিনের ভিতর দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হয়। একটি উদাহরণ দাও। 
Ans. রেললাইনে কান পাতলে দূর থেকে ট্রেন আসার শব্দ শোনা যায়।


 13. শব্দের কম্পাঙ্কের একক কী ?
Ans. সাইকেলস প্রতি সেকেন্ড বা হার্ৎজ (Hz)। 


14. একটি সুরশলাকার কম্পাঙ্ক 256' বলতে কী
বোঝায় ?
Ans. সুরশলাকার 1টি বাহু সেকেন্ডে 256 বার পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করে।


15. cps কীসের একক?
Ans. কম্পাঙ্কের একক।


16. স্বাভাবিক কম্পনের একটি উদাহরণ দাও। 
Ans. কাঁসার ঘণ্টায় আঘাত করা হল।


17. স্বাভাবিক কম্পনে শক্তির ক্ষয় হয় কীভাবে?
 Ans. বায়ুর বাধা, ঘর্ষণ ইত্যাদি কারণে।


18. এক সেকেন্ডে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে কী বলে?
Ans. তরঙ্গবেগ ।


19. পরবশ কম্পনের উদাহরণ দাও । 
Ans. কম্পমান সুরশলাকার দণ্ড টেবিলের ওপর চেপে ধরলে শব্দ জোরে শোনায়।


20. শব্দের প্রতিধ্বনির ব্যবহারিক প্রয়োগ কী?
Ans. সমুদ্রের গভীরতা মাপা যায়।


21. গিটার, সেতার, বেহালা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রে কোন ধরনের কম্পন ঘটে?
Ans. পরবশ কম্পন।


22. স্বাভাবিক কম্পনে শুধুমাত্র যে বলটি কাজ করে তার নাম কী ?
Ans. প্রত্যানয়ক বল (Restoring force).


23. অবতল প্রতিফলক কোথায় রাখা হয় ?
Ans. বড়ো হলঘরে বক্তৃতা শোনার জন্য।


24. শব্দের প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগানো হয় এরূপ যন্ত্রের নাম লেখো।
Ans. স্পিকিং টিউব, গ্রামোফোনের চোং ইত্যাদি।


25. সাধারণ ঘরে কথা বললে শব্দের প্রতিধ্বনি শোনা যায় না কেন?
Ans. সাধারণ ঘরের দুই দেয়াল 16.6 মিটারের থেকে কম হয় বলে।


26. উপসুর কাকে বলে?
Ans. মূলসুর ছাড়া স্বরে উপস্থিত অন্যান্য সুরগুলিকে উপসুর বলে।


27. সমমেল কী?
Ans. স্বরের মধ্যে যে উপসুরগুলির কম্পাঙ্ক মূলসুরের কম্পাঙ্কের সরল গুণিতক তাদের সমমেল বলে।


28. সুরযুক্ত শব্দের একটি উদাহরণ দাও।
Ans. সেতারের শব্দ।


29. সুর ও স্বরের 1টি পার্থক্য লেখো।
Ans. একটিমাত্র কম্পাঙ্কবিশিষ্ট শব্দকে সুর বলে। আর বিভিন্ন কম্পাঙ্কের একাধিক সুরের মিশ্রণকে স্বর বলে।


30. সুরবর্জিত শব্দের একটি উদাহরণ দাও।
Ans. কলকারখানার শব্দ।


31. সুরযুক্ত শব্দের বৈশিষ্ট্য কী কী?
Ans. (i) প্রাবল্য বা তীব্রতা, (ii) তীক্ষ্ণতা ও (iii)গুণ বা জাতি।


32. বেল ও ডেসিবেলের সম্পর্ক কী ?
Ans. 1 বেল = 10 ডেসিবেল।


33. শব্দের তীব্রতার একক কী?
Ans. বেল একক।


34. কত হলে তা দূষণ ছড়ায় ?
Ans. 65 ডেসিবেল বা তার বেশি হলে।


35. শব্দবাজি থেকে কত শব্দ নির্গত হয়?
Ans. 150 ডেসিবেল বা তারও বেশি।


36. স্বনক কী ?
Ans. শব্দের উৎসকে স্বনক বলে।


37. SONAR শব্দটির পুরো কথাটি কী ?
Ans. SOUND WAVE NAVIGATION AND RANGING.


38. শব্দের শব্দ শুনতে পায় এরূপ একটি প্রাণী কী ?
Ans. বিড়াল শব্দেতর শব্দ শুনতে পায়।


39. শ্রুতিগোচর শব্দের সীমা কত?
Ans. স্বনকের কম্পন সেকেন্ডে 20 থেকে 20,000 বার।


40. Ultrasonography-তে কী ধরনের শব্দতরঙ্গ ব্যবহৃত হয় ?
Ans. শব্দোত্তর তরঙ্গ।


41. সূর্যে সংঘটিত বিস্ফোরণ আমরা শুনতে পাই না কেন ? 
Ans. শব্দ বিস্তারের জন্য মাধ্যম দরকার। সূর্য থেকে পৃথিবী পর্যন্ত কোনো জড় মাধ্যম সংযোগ নেই। এজন্য সূর্যে সংগঠিত বিস্ফোরণ আমরা শুনতে পাই না।


42. শব্দোত্তর শব্দ শুনতে পায় এরূপ একটি প্রাণী কী ?
Ans. বাদুড় শব্দোত্তর শব্দ শুনতে পায়।


43. অনুনাদ (Resonance) কাকে বলে?
Ans. প্রযুক্ত পর্যাবৃত্ত বলের কম্পাঙ্ক যখন বস্তুর স্বাভাবিক কম্পাঙ্কের সঙ্গে মিলে যায়, তখন বস্তুর কম্পনের বিস্তার খুব বেশি হয় এবং খুব জোরালো শব্দ শোনা যায়। এই কম্পনকে বলে অনুনাদ
(Resonance)। অর্থাৎ অনুনাদও পরবশ কম্পন।


44. মানুষ কত ডেসিবেল তীব্র শব্দ সহ্য করতে পারে ?
Ans. মানুষ 85.90 ডেসিবেল তীব্র শব্দ সহ্য করতে পারে। 


45. শব্দ বলতে কী বোঝো?
Ans. কোনো কম্পনশীল বস্তু থেকে উৎপন্ন যে শক্তি কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আমাদের কানে পৌঁছোয় এবং মস্তিষ্কে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে তাকে শব্দ বলে। 


46. শ্রুতিগোচর শব্দ কাকে বলে?
Ans. কোনো বস্তুর কম্পন যদি সেকেন্ডে 20 থেকে 20,000-এর মধ্যে হয়, তাহলে ওই কম্পনশীল বস্তু থেকে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই। এই শব্দকে শ্রুতিগোচর শব্দ বলে। 


47. শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহারিক প্রয়োগ উল্লেখ করো।
Ans. নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলিতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়—
(i) পানীয় দুধ, জল ইত্যাদি জীবাণু মুক্ত করার জন্য। 
(i) গভীর সমুদ্রে অবস্থান নির্ণয়ের জন্য।
(ii) ময়লা জামাকাপড় পরিষ্কার করতে।
(iv) সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে এবং সমুদ্রে ডুবোজাহাজের অবস্থান জানতে। 
(v) মানুষের দেহের মধ্যে টিউমার বা অন্য কোনো অসুখ নির্ণয়ে।

 

ধন্যবাদ সবাইকে। উপরের শব্দ সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর Answer Short Questions About Sound  তথ্য গুলো জেনে নিয়েছো। আরও নতুন বিষয়ের তথ্য গুলো জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করো।

Friday, November 25, 2022

November 25, 2022

নিউটনের গতিসুত্রের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর|| Newton's Laws of Motion Important Questions Answers||


:: নিউটনের গতিসূত্র::

নিউটনের গতিসুত্রের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর|| Newton's Laws of Motion Important Questions Answers||


নমস্কার সবাইকে, আশাকরি সবাই ভালো আছো। আজকে তোমাদের সাথে নিউটনের গতিসুত্রের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর|| Newton's Laws of Motion Important Questions Answers|| গুলো শেয়ার করে নিলাম। সুতরাং দেরী না করে তাড়াাড়ি আজকের  Newton's Laws of Motion Important Questions Answers|| দেখে নাও।


 1. তুমি একটি বইকে ঠেললে বইটিও তোমাকে বিপরীত দিকে সমান জোরে ঠেলবে। তবে বইটি সামনের দিকে গতিশীল হয় কীভাবে?

Ans. একটি বইকে যখন হাত দিয়ে ঠেলা হয়, বইটিও একটি সমান ও বিপরীত বল দ্বারা হাতকে ঠেলবে। এই ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল দুটি, দুটি ভিন্ন বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে বলে সাম্য অবস্থার সৃষ্টি হয় না। এই সময় ঘর্ষণ বল প্রযুক্ত বলের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে। প্রযুক্ত বল ঘর্ষণ বল অপেক্ষা বেশি হয় তাই বইটি সামনের দিকে এগিয়ে যায়।


2. একটি চলন্ত ট্রেনের কোনো যাত্রী একটি বল ওপরের দিকে ছুড়ে দিলে, বলটি আবার তার হাতে এসে পড়ে কেন? 

Ans. একটি চলন্ত ট্রেনের কোনো যাত্রী একটি বল ওপরের দিকে ছুড়ে দিলে বলটি আবার তার হাতে এসে পড়ে। এটি গতিজাড্যের জন্য হয়। ট্রেনের মধ্যে থাকা সমস্ত বস্তুই ট্রেনের সঙ্গে সমান বেগে গতিশীল থাকে। বলটিকে যখন ওপরে ছুড়ে দেওয়া হয় তখন ট্রেন, যাত্রী এবং বল সমানভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যায় ফলে, বলটি আবার হাতে এসেই পড়ে।


3. রৈখিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্রটি লেখো।

Ans. দুই বা ততোধিক বস্তুর মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো বল প্রযুক্ত না হলে তাদের মোট রৈখিক ভরবেগ সর্বদা একই থাকে। একেই রৈখিক ভরবেগের সংরক্ষণ বা নিত্যতা সূত্র বলে।


4. মহাশূন্যে রকেট যেতে পারে কিন্তু জেট বিমান যেতে পারে না কেন?

Ans. জেট বিমান-এর জ্বালানি দহনের জন্য যে অক্সিজেন প্রয়োজন তা সে বায়ুমণ্ডল থেকেই সংগ্রহ করে। কিন্তু মহাশূন্যে অক্সিজেন না থাকায় জেট বিমান মহাশূন্যে যেতে পারে না। কিন্তু রকেটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সজ্জিত থাকে তাই রকেট মহাশূন্যে যেতে পারে।


5. নিউটন বা ডাইনকে বলের পরম একক বলা হয় কেন ?

Ans. পৃথিবী বা মহাবিশ্বের যে-কোনো জায়গায় বলের পরিমাপ নিউটন বা ডাইন একক অনুযায়ী করলে সব জায়গাতেই একক বলের মান একই থাকবে। এইজন্য এই দুটি একককে বলের পরম একক বলা হয়।


6. অভিকর্ষীয় একককে পরম একক বলা হয় না কেন?

Ans. বলের অভিকর্ষীয় এককের মান অভিকর্ষজ ত্বরণের মানের ওপর নির্ভর করে। অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয়। অন্যান্য গ্রহে, নক্ষত্রেও এই ত্বরণের মান পৃথিবী থেকে আলাদা হয়। এজন্য বলের অভিকর্ষীয় এককের মান স্থানের পরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়। তাই এই একককে পরম একক বলা হয় না।


7. বলের অভিকর্ষীয় একক ব্যবহার করলে নির্ভুল পরিমাপের জন্য স্থানের উল্লেখ করতে হয় কেন?

Ans. অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন হয় বলে বলের অভিকর্ষীয় এককের মান স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তনের হার খুবই কম। ভূপৃষ্ঠে স্থানভেদে অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন 0.6 শতাংশের বেশি হয় না। এজন্য সাধারণ পরিমাপের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনকে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু নির্ভুল পরিমাপের জন্য স্থানের উল্লেখ করতে হয়।


8. ক্রিকেট বলকে আঘাত করার সময় ব্যাটটি পিছনের দিকে সরে আসে কেন?

 Ans. ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট বলকে আঘাত করা হল ক্রিয়া। নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে বলও ব্যাটের ওপর সমান ও বিপরীত বল প্রয়োগ করবে যাকে প্রতিক্রিয়া বল বলে। এই প্রতিক্রিয়া বলের জন্যই ব্যাটটি পিছনের দিকে সরে আসে।


9. চেয়ারে বসে থাকা কোনো ব্যক্তি ওই চেয়ারের ওপর বল প্রয়োগ করে চেয়ারটিকে ওপরে তুলতে পারে না কেন? 

Ans. নিউটনের প্রথম গতিসূত্র অনুযায়ী কোনো বস্তু বা বস্তুতন্ত্রের মধ্যে গতি সৃষ্টি করতে হলে তার ওপর বাহ্যিক বল প্রয়োগ করতে হবে এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বস্তুর ওপর হতে হবে। চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তি ও চেয়ার একটি বস্তুতন্ত্র গঠন করে যার ওপর কোনো বাহ্যিক বল নেই এবং ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল উভয়ই চেয়ারের ওপর প্রযুক্ত হয়, তাই চেয়ারে কোনো গতি সৃষ্টি হবে না এবং চেয়ার ওপরে উঠবে না।


10. চলন্ত বাস থেকে নীচে নামার সময় সর্বদাই পিছনের দিকে হেলে নামতে হয় কেন?

Ans. চলন্ত বাসে আরোহীর দেহ গতিজাড্যে থাকে এবং মাটিতে নামলে শরীরের ওপরের অংশ গতিজাড্যের জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায়। সামনের দিকে শরীরের এই পতন আটকাতে আরোহীকে সর্বদা পিছনের দিকে হেলে নামতে হয়।


11. ভারী কোটের ময়লা ঝাড়তে কোটকে শক্ত ব্রাশ দিয়ে ঝাড়া হয় কেন?

Ans. কোটকে শক্ত ব্রাশ দিয়ে ঝাড়া দেওয়ার ফলে কোটে গতিজাড়া সৃষ্টি হয়। স্থিতিজাড্য সৃষ্টি করতে গিয়ে ধুলোকণাগুলি আগের অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে কোর্ট থেকে আলাদা হয়ে যায়।


12. গতিশীল রোলারের চেয়ে স্থির অবস্থায় থাকা রোলারকে ঠেলা কষ্টকর কেন?

Ans. আমরা জানি, স্থির কোনো বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল স্থিত ঘর্ষণ বলের মান গতিশীল বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল গতীয় ঘর্ষণের তুলনায় বেশি। ফলে বিরুদ্ধ বাধার পরিমাণ স্থির রোলারের ক্ষেত্রে বেশি হয়। ফলে তাকে ঠেলা বেশি কষ্টকর।


13. বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ বন্ধ করলে ঘুরন্ত পাখা কিছুক্ষণ ঘুরতে থাকে কেন?

Ans. চলন্ত বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ বন্ধ করলেও পাখাটি গতিজাড্যের জন্য আরও কিছুক্ষণ ঘুরতে থাকে। গতিশীল বস্তুর গতি বজায় রাখার প্রবণতাকে গতিজাড়া বলে। গতিজাড্যের কারণেই সুইচ বন্ধ করার পরও পাখা ঘুরতে থাকে।


14. আরোহী নৌকা থেকে লাফিয়ে নামলে নৌকাটি পিছিয়ে যায় কেন?
Ans. আরোহী পা দিয়ে নৌকার ওপর একটি তির্যক বল প্রয়োগ করে নৌকা থেকে লাফ দেয়। নৌকাও সমান এবং বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া বল প্রয়োগ করে। ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বিন্দুতে কাজ করে। ক্রিয়ার প্রভাবে নৌকা পিছিয়ে যায় এবং প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে মানুষটি পাড়ে যায়।


15. কাচের শাসিতে একটা ঢিল ছুড়লে শার্সি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কিন্তু বন্দুকের গুলি ছুড়লে একটি গোল গর্তের সৃষ্টি হয় কেন?
Ans. কাচের শার্সিতে একটি ঢিল ছুড়লে ঢিলের বেগ কম হওয়ায় অসম বল কাচের সর্বত্র সৃষ্টি হতে প্রয়োজনীয় সময় পায়। স্থিতিজাড্য নষ্ট হয়ে কিছু টুকরো আলাদা হয়ে কাচের শার্সিকে টুকরো টুকরো করে দেয়। বন্দুকের গুলি খুব দ্রুত আঘাত করে এবং অসম বল গঠিত হয়ে জানলার শার্সির বিভিন্ন বিন্দুতে স্থিতিজাড়া নষ্ট হওয়ার যথেষ্ট সময় পায় না, ফলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি অংশের স্থানচ্যুতি ঘটে গর্ত সৃষ্টি হয়।



ধন্যবাদ সবাইকে। উপরের নিউটনের গতিসুত্রের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর|| Newton's Laws of Motion Important Questions Answers|| পড়ে নিয়েছো। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করো। আরও নতুন তথ্য গুলো জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করো।

Friday, November 18, 2022

November 18, 2022

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য || সংবিধানের মুখ্য বৈশিষ্ট্য গুলো আলোচনা|| Characteristics of Indian Constitution||


:: ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য  গুলো আলোচনা ::

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য || সংবিধানের মুখ্য বৈশিষ্ট্য গুলো আলোচনা|| Characteristics of Indian Constitution||



সূচনা:  ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনা করার জন্য ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর একটি গণপরিষদ গঠিত হয়। প্রায় তিন বছর আলাপ- আলোচনার পর খসড়া সংবিধান ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় এবং ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি থেকে নতুন সংবিধান কার্যকারী হয়।


ভারতীয় সংবিধানের বৈশিষ্ট্য

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

 1. বিশ্বের বৃহত্তম ও জটিলতম সংবিধান:  বিশ্বের বৃহত্তম ও জটিলতম সংবিধান হল ভারতের সংবিধান। মূল সংবিধানে একটি প্রস্তাবনা, ৩৯৫টি ধারা, বহু উপধারা এবং ৮ টি তপশিল (Schedule) ছিল। বারবার সংবিধান সংশোধনের ফলে বর্তমানে প্রায় ৪৫০টি ধারা, অনেক উপধারা এবং ১২টি তপশিল (Schedule) আছে। বিশ্বের কোনো সংবিধানেই এত ধারা-উপধারা নেই। এই সংবিধান আকৃতিতে বিশ্বের বৃহত্তম হওয়ার ফলে জটিলতমও হয়েছে। সংবিধানে মৌলিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ের উল্লেখ থাকায় জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।



2. যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান:  ভারতের সংবিধান যুক্তরাষ্ট্রীয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল – ১) লিখিত সংবিধান, ২) কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে ক্ষমতাবণ্টন, ৩) নিরপেক্ষ যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতের অস্তিত্ব। তবে সংবিধানে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ ক্ষমতার উল্লেখ থাকার ফলে ভারতীয় সংবিধানকে এককেন্দ্রিক সংবিধানও বলা হয়। কে. সি. হোয়ার তাই ভারতীয় সংবিধানকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রতিম বলে অভিহিত করেছেন।



3. প্রস্তাবনার সংযুক্তি :  মার্কিন সংবিধানের অনুকরণে ভারতীয় সংবিধানেও একটি প্রস্তাবনা সংযুক্ত হয়েছে। সংবিধানের অস্পষ্টতা দূরীকরণে প্রস্তাবনার বিশেষ গুরুত্ব আছে। ভারত সংবিধান রচয়িতাগণ প্রস্তাবনার মাধ্যমে সংবিধানের উদ্দেশ্য ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বর্ণনা দিয়েছেন। বর্তমানে প্রস্তাবনায় ভারতবর্ষকে একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে।



  4. নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি :  মূল সংবিধানে সাত প্রকার মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। যথা— ১) সাম্যের অধিকার, ২) স্বাধীনতার অধিকার, ৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার, ৫) সংস্কৃতি ও শিক্ষা-বিষয়ক অধিকার, ৬) সম্পত্তির অধিকার, ৭) শাসনতান্ত্রিক প্রতিবিধানের অধিকার। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ৪৪তম সংবিধান- সংশোধনে সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।


5. নির্দেশমূলক নীতির সংযুক্তি:  আয়ার্ল্যান্ডের সংবিধানের মতো ভারতীয় সংবিধানের চতুর্থ অংশে (part IV) রাষ্ট্র পরিচালনার কতকগুলি নির্দেশমূলক নীতি সংযুক্ত হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ৩৬-৫১নং ধারাগুলিতে এর উল্লেখ আছে। জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে নীতিগুলি অপরিহার্য। নীতিগুলি হল—   ১) কাজের অধিকার, ২) বার্ধক্য ভাতা, বেকারদের সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার, ৩) ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রবর্তন, ৪) অনগ্রসর সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ প্রভৃতি।



6. নাগরিকদের কর্তব্য:  ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের কর্তব্যের উল্লেখ আছে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ৪২তম সংবিধান সংশোধনে দশটি মৌলিক কর্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- ১) সংবিধান মান্য করা, ২) দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করা, ৩) জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা, ৪) জাতির মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষা করা ইত্যাদি।



7. সুপ্রিমকোর্টের প্রাধান্য :  যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে সুপ্রিমকোর্টের কথা বলা হয়েছে। ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের ব্যাখ্যা, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি প্রভৃতি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।



8. এক-নাগরিকত্ব:  সংবিধানে ভারতীয় নাগরিকদের এক- নাগরিকত্ব স্বীকৃত হয়েছে। ভারতের অঙ্গরাজ্যগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত হওয়ায় নাগরিকদের কোনো অঙ্গরাজ্যের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। অর্থাৎ ভারতে দ্বি-নাগরিকত্ব বা প্রাদেশিক নাগরিকত্বের অস্তিত্ব নেই।



9. সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার :  মূল ভারতীয় সংবিধানের ৩২৫-৩২৬নং ধারায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে ২১ বছর বয়সি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে ভোটাধিকার প্রদান করা হয়। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৬১তম সংবিধান- সংশোধনে ভোটাধিকারের বয়স কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে।



10. ধর্মনিরপেক্ষতা:  সংবিধানে ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের কোনো রাষ্ট্রীয় ধর্ম নেই। সেই সঙ্গে ভারতরাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না। সাধারণভাবে প্রত্যেক নাগরিক তার ধর্মাচরণ ও ধর্মপ্রচার করতে পারে। ড. বি. আর. আম্বেদকরের মতে—“সংসদ নাগরিকের ওপর কোনো ধর্মকে জোর করে চাপিয়ে দেবে না।”



  মন্তব্য: ভারতীয় সংবিধান একাধারে যুক্তরাষ্ট্রীয় ও এককেন্দ্রিক, সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয়, রাষ্ট্রপতি শাসিত ও মন্ত্রীপরিষদ শাসিত শাসনব্যবস্থার নিদর্শন। ভারতীয় সংবিধানের সকল বৈশিষ্ট্য নিজস্ব নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান থেকে প্রস্তাবনা ও মৌলিক অধিকারগুলি, কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রীয় আদর্শ, আয়ার্ল্যান্ড ও বার্মা থেকে নির্দেশমূলক নীতিগুলি এবং ইংল্যান্ডের সংবিধান থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার আদর্শ সংযুক্ত হয়েছে।