Breaking


Thursday, December 29, 2022

কার্বনের উৎস ও ব্যবহার || Sources Of Carbon And Uses ||

 
:: কার্বনের উৎস ও ব্যবহার (Sources of Carbon and uses) :: 

কার্বনের উৎস ও ব্যবহার || Sources Of Carbon And Uses ||



প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের মূল উপাদান হল কার্বন/Carbon। কার্বনকে মুক্ত অবস্থায় মৌলরূপে এবং বিভিন্ন মৌলের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় যৌগরূপে প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বর্তমানে পৃথিবীতে কার্বন যৌগের সংখ্যা দশ লক্ষেরও বেশি। এ সব যৌগ ভূপৃষ্ঠে, খনিজ রাজ্যে, সমুদ্রগর্ভে ও বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে আছে। অর্থাৎ, এই পৃথিবী হল কার্বন ও কার্বন যৌগের এক বিশাল ভাণ্ডার। আজকে আমরা জানবো Sources Of Carbon And Uses বা কার্বনের উৎস ও ব্যবহার। 



1. মুক্ত অবস্থায় কার্বন : মুক্ত অবস্থায় বিশুদ্ধ কার্বন কেলাসাকার হীরক, গ্রাফাইট ও ফুলারিনে মৌল রূপে থাকে।
■ হীরক : খনিজ পদার্থ হিসাবে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের গোলকুণ্ডায় হীরক পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় 95% হীরক দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া যায়।
 • ব্যবহার : (i) হীরক বহুমূল্য রত্ন হিসাবে অলংকার শিল্পে এবং (ii) কাঁচ কাটতে, পাথর ছিদ্র করতে ও ধাতু পালিশ করতে কালো হীরক (বোর্ট বা কার্বোনেডো) ব্যবহার করা হয়। 
গ্রাফাইট : শ্রীলঙ্কা, ক্যালিফোর্নিয়া, সাইবেরিয়া, ইটালি, মেক্সিকো এবং ভারতের সিকিমে খনিজরূপে গ্রাফাইট পাওয়া যায়।
ব্যবহার : (i) পেনসিলের শিষপিচ্ছিলকারক তেল তৈরিতে, 
(ii) তড়িৎ চুল্লিতেতড়িৎ-বিশ্লেষণে তড়িৎদ্বার রূপে এবং
(iii) উচ্চ-তাপসহ মুচি তৈরিতে এবং ব্যাটারি প্রস্তুতিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
ফুলারিন : নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা প্রভৃতি অঞ্চলে কয়লার খনিতে অ্যানথ্রাসাইট কয়লার মধ্যে ফুলারিনের সন্ধান মিলেছে) উচ্চ উষ্মতায় (1000°C) আর্গন গ্যাসের মধ্যে উত্তপ্ত করলে ফুলারিন পাওয়া যায়।
ব্যবহার :(i) উচ্চ উষ্মতায় ফুলারিন অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor) রূপে ব্যবহৃত হয়। 
(ii) খুব ছোটো আকারের নল ন্যানোটিউব তৈরি করতে ফুলারিন ব্যবহৃত হয়। এই নল গবেষণার কাজে ব্যবহার হয়।



2. যৌগের উপাদান রূপে কার্বন : 
(i) জীবদেহের প্রোটিন, শর্করা জাতীয় (কার্বোহাইড্রেট), স্নেহ জাতীয় (ফ্যাট), নিউক্লিক অ্যাসিড, সেলুলোজ প্রভৃতি কার্বনঘটিত যৌগ।
(ii) খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম এবং খনি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসে কার্বন বর্তমান। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, প্যারাফিন, ভেসেলিন ইত্যাদি কার্বনের যৌগ সমন্বিত মিশ্রণ।
(iii) চুনাপাথর (CaCO3), ক্যালামাইন (ZnCO3), ম্যাগনেসাইট (MgCO3), সিডারাইট (FeCO3), ম্যালাকাইট [CuCO3, Cu(OH)2] প্রভৃতি খনিজ কার্বনেটে কার্বন আছে। (iv) বায়ুর অন্যতম উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইড কার্বনঘটিত যৌগ।
(v) খনিজ কয়লা হল মুক্ত কার্বন এবং কার্বনের হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং সালফার ঘটিত বহু অণু জটিল যৌগের মিশ্রণ।
ব্যবহার : তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, শিল্প কেন্দ্রে এবং গৃহে জ্বালানি হিসাবে কয়লা ব্যবহার করা হয়।



3. উপজাত হিসাবে অনিয়তাকার কার্বন :
■ (1) অঙ্গার বা চারকোল
(i) কাঠের অন্তর্ভূম পাতনের ফলে পাতন পাত্রে যে অনুদ্বায়ী কালো বর্ণের অবশেষ থাকে, তাকে কাঠকয়লা (Wood-charcoal) বলে।  ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে সিক্ত কাঠের অন্তর্ধম পাতনে যে  অঙ্গারটি পাওয়া যায়, তাকেই সক্রিয় অঙ্গার (Activated charcoal) বলা হয়।
(ii) চিনির অন্তধূম পাতন করলে অবশেষ রূপে শর্করা কয়লা (Sugar charcoal) পাওয়া- যায়। এটি বিশুদ্ধ কার্বন। 
(iii) জীবজন্তুর হাড়ের গুঁড়োর অন্তর্ধম পাতন করলে যে কালো অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে অস্থি অঙ্গার বা বোন ব্ল্যাক বলে।
(iv) রক্তের অন্তধূম পাতন করলে অবশেষ হিসাবে রক্ত অঙ্গার পাওয়া যায়। 
ব্যবহার : (i) কাঠকয়লা জ্বালানি হিসাবে, বিজারক রূপে, ফিলটার বেডে পরিস্রাবক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। (ii) শর্করা কয়লা পরীক্ষাগারে বিজারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। (iii) চিনি শোধনে এবং আইভরি ব্ল্যাক নামে কালো রং প্রস্তুতিতে অস্থি অঙ্গার ব্যবহার করা হয়।। (iv) দ্রবণ থেকে রঞ্জক পদার্থ দূর করতে এবং কোনো কোনো ওষুধে রক্ত অঙ্গার ব্যবহার করা হয়।
(2) (i) ভুসাকালি : কেরোসিন তেল, পেট্রোল, বেনজিন, তারপিন তেল ইত্যাদি কার্বন বহুল জৈব যৌগকে কম বায়ুতে পোড়ালে প্রচুর কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। একে ঠাণ্ডা পাত্রের গায়ে জমা করলে ভুসাকালি বা ঝুল পাওয়া যায়। এটি রং, ছাপার কালি, জুতোর কালি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
• (ii) কার্বন ব্ল্যাক (Carbon black) : প্রাকৃতিক গ্যাসকে (মিথেন) কম বায়ুতে দহন করলে উৎপন্ন ধোঁয়া থেকে প্রাপ্ত ভুসাকালিকে কার্বন ব্ল্যাক বলে। এটি রং, ছাপার কালি, রবারের সঙ্গে মিশিয়ে মোটর গাড়ির টায়ার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
(iii) কোক (Coke) : প্রাকৃতিক কয়লার অন্তর্ধম পাতন করলে পাত্রের তলায় যে কালো অনুদ্বায়ী কঠিন অবশেষ পড়ে থাকে, তাকে কোক কয়লা বলে। অন্তধূম পাতনের উষ্মতা কম বা বেশি থাকলে যথাক্রমে সফ্ট কোক এবং হার্ড কোক পাওয়া যায়। সফ্‌ট কোক ধোঁয়াহীন জ্বালানী হিসাবে এবং হার্ড কোক ধাতু নিষ্কাশনে জ্বালানি এবং বিজারক রূপে ব্যবহৃত হয়।
(iv) গ্যাস কার্বন (Gas Carbon) : কয়লার অন্তর্ধম পাতনে পাতন পাত্রের দেওয়ালে যে কালো ও শক্ত আস্তরণ পড়ে, তাকে গ্যাস কার্বন বলে। এটি তাপতড়িতের সুপরিবাহী। গ্যাস কার্বন অ্যাকল্যাম্প ও তড়িৎ কোশের তড়িৎদ্বার রূপে এবং ডায়নামোমোটরের ব্রাশ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।



ধন্যবাদ সবাইকে। উপরের লেখা টাই আমরা জানলাম কার্বনের উৎস ও ব্যবহার Sources Of Carbon And Uses. ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এইরকম তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।

No comments:

Post a Comment